বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে পড়াশোনা

আকাশে ওড়ার স্বপ্ন কমবেশি অনেকেই দেখেন। পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এমন চাকরির গ্ল্যামার তো আকাশছোঁয়া। এজন্য বৈমানিক হতে চান তারা। তবে খুব কমসংখ্যক মানুষই পান আকাশে ওড়ার সুযোগ। বড় অংকের সম্মানীর সঙ্গে দেশ-বিদেশে পাড়ি দেয়ার লোভনীয় সুযোগ রয়েছে উড়োজাহাজের পাইলটিং পেশায়। আপনার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন বাস্তব হবে যদি আসেন এই পেশায়। তবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বৈমানিক হওয়া আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাইলট হওয়া কিন্তু এক কথা নয়। এমনটাই জানা গেল সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যে। যাত্রী বা পণ্যবাহী বাণিজ্যিক বিমানের বৈমানিক হতে হলে সিভিল এভিয়েশনের লাইসেন্স পেতে হয়। আর এজন্য রয়েছে হাতে-কলমে এবং আকাশ-জমিনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ।

পাইলট হওয়ার হাতেখড়ি : নিজেকে পরিপূর্ণ পাইলট হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের সনদ। আর সনদ পাওয়ার পথদ্রষ্টা হলো ‘বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইং ক্লাব নামে সবার কাছে পরিচিত। এছাড়া বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত একাডেমিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘এভিয়েশন একাডেমি লিমিটেড’।
ফ্লাইং ক্লাবের সদস্য হওয়া : ফ্লাইং ক্লাবের সদস্য হতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি অথবা সমমানের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন হওয়া চাই। সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতে থাকা চাই ৫০ শতাংশ নম্বর। এরপর রয়েছে মৌখিক পরীক্ষার বৈতরণী। ভবিষ্যতের বিমানচালক শারীরিকভাবে কতটা ফিট, তা যাচাই করে সার্বিকভাবে সুস্থ হলেই প্রার্থী ক্লাবের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
এসপিএল, পিপিএল আর সিপিএল : ফ্লাইং ক্লাব তিনটি ধাপে শিক্ষানবিসদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। প্রথম ধাপে হলো এসপিএল, যা মূলত স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স। এর জন্য বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৬ বছর আর এসএসসি কিংবা ‘ও’ লেভেলে পদার্থবিদ্যা ও গণিত থাকা বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয় ধাপ হলো পিপিএল। যাকে বলা হয় প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স। এসএসসি অথবা সমমানের ‘ও’ লেভেল সম্পন্ন করে পিপিএল কোর্স করা যাবে, তবে প্রার্থীর বয়স ন্যূনতম ১৭ বছর হতে হবে। এর জন্য ৪০ ঘণ্টা (ফ্লাইং আওয়ার) বিমানে ফ্লাইং প্রশিক্ষণ এবং সেই সঙ্গে পিপিএলের জন্য নয়টি বিষয়ে গ্রাউন্ড কোর্সসম্পন্ন এবং পরে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি কর্তৃক পিপিএল প্রদানের জন্য ওই নয়টি বিষয়ে পরীক্ষা ও ফ্লাইট টেস্ট উত্তীর্ণ হতে পারলেই পিপিএল প্রদান তথা পিপিএল কোর্সের পরিসমাপ্তি এবং পরবর্তী সিপিএল কোর্স শুরু করতে হয়। তাই পিপিএল কোর্সের জন্য প্রায় ৮ মাস সময় লাগতে পারে। পিপিএল শেষে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে যোগ্যতা প্রমাণস্বরূপ পরীক্ষা দিতে হয়। এভাবে শেষ হলো পিপিএল। এরপর সিপিএলের পাঠ। সিপিএলকে বলা হয় কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স। ১০০ ঘণ্টার বিমান চালনা আর আগের ১০টি বিষয় বিস্তৃতভাবে পড়ানো হয় এ কোর্সে। সময় লাগে ৩৫ থেকে ৩৭ সপ্তাহ। পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে প্রার্থীকে ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পিপিএল ও সিপিএল শেষে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দেয় পাইলট হওয়ার সনদ।
তবে পাইলট হওয়ার খরচ বাড়ছে দিন দিন। পিপিএল ও সিপিএল করতে মোট খরচ পড়বে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা।
চাকরি: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর চাহিদা অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন। এ তো গেল দেশের ভেতরের অবস্থা। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাওয়া সনদ দিয়ে দেশের বাইরেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। কেননা, এই সনদ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশে পাইলট হওয়ার অন্যতম পাঠশালা এভিয়েশন একাডেমি লিমিটেড। এ একাডেমিতে পড়াশোনা করে ইউকে, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ রয়েছে। আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ : এভিয়েশন একাডেমি লিমিটেড, বসতি এভিনিউ, ফ্ল্যাট-এ২, হাউস-১০, রোড-৫৩, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২। ফোন : ৮৮৩৫৮৯৭, মোবাইল : ০১৮১৯৪৮৫৩০৮।

প্রিয় পাঠক, পোস্টটি পড়ার পর আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা, জিজ্ঞাসা কিংবা পরামর্শ প্রদানের জন্য দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য প্রদান করুন। যা আমাদের ব্লগিং চালিয়ে যেতে অনেক উৎসাহ অনুপ্রেরণা জাগাবে। আর প্রাসঙ্গিক যেকোন প্রশ্নের সমাধান পেতে মেইল করুন contact@projukte.com ঠিকানায় অথবা অধিক জরুরী প্রয়োজনে কল করুন ০১৭৫৪৭২০২৫৫ নম্বরে। আপনার একটি মন্তব্যই আমাদের নিকট অনেক মূল্যবান। সাথেই থাকুন প্রযুক্তি ডট কম বাংলা ব্লগের সাথে।
ধন্যবাদান্তে,
প্রযুক্তি ডট কম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রদানের জন্য ধন্যবাদ