দুঃসাহসিক মেরিন প্রফেশনাল শিক্ষার স্বপ্ন




উন্নয়নশীল দেশে কর্মমুখি শিক্ষার বিকল্প নেই। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে ওঠতে এ শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আজ আমরা এরকমই এক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।


 রোমাঞ্চপ্রিয় তরুণ চ্যালেঞ্জারদের কাছে মেরিন
পেশার গুরুত্ব অপরিসীম। এ শিক্ষায় অন্যতম আকর্ষণ হল ভ্রমণ। এখানে পড়তে পড়তে যোগ্যরা অনায়াসেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তথা দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারে। জাহাজ শিল্পে কর্মীদের মর্যাদাও আন্তর্জাতিক মানের

জাহাজে প্রথম নিয়োগ প্রাপ্ত অফিসারদের ক্যাডেট বলা হয়। এরা প্রশিক্ষনার্থী অফিসার, এদের জাহাজে বিভাগ অনুযায়ী ডেক ক্যাডেট বা ইঞ্জিন ক্যাডেট বলা হয়। এই ক্যাডেটগণ কালক্রমে পদোন্নতি পেয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও চীফ ইঞ্জিনিয়ার হন। একজন অফিসার বা ক্যাডেটকে প্রথমে ০২ বছরের একটি একাডেমিক কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ৪ সেমিষ্টারে বিন্যস্ত মোট ২৪ মাসের কোর্স এটি। প্রতি সেমিষ্টার ৬ মাস করে। এই ২৪ মাসের মধ্যে ইঞ্জিন ক্যাডেটদের ওয়ার্কশপ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা সহ আছে জাহাজ ও শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শনের ব্যবস্থা। ২৪ মাস পর ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হবে এবং এরপর ক্যাডেটদের ১২ মাস জাহাজে ক্যাডেট বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাটাতে হয়। জাহাজে ১২ মাস অতিবাহিত করার পর ক্যাডেটরা ৬ মাস লেখাপড়া করবে এবং নিজেদের তৈরি করবে বাংলাদেশ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য। এই পরীক্ষা চাইলে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অষ্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডেও দেয়া সম্ভব। উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ন হলে ক্যাডেটরা পরবর্তী প্রমোশনের জন্য উপযুক্ত হবে এবং তারা থার্ড অফিসার বা ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জাহাজে যোগদান করতে পারবে। এক পর্যায়ে এই জুনিয়র অফিসাররাই হবেন জাহাজের ক্যাপ্টেন এবং চীফ ইঞ্জিনিয়ার।

বিজ্ঞান বিষয় থেকে মাধ্যমিকে এবং উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৩.৫ সহ পদার্থবিদ্যা ও গণিত বিষয়েও পৃথক ভাবে ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫ এবং ইংরেজিতে জিপিএ ন্যূনতম-৩, অন্যথায় ৫.৫ আইইএলটিএস স্কোর থাকতে হবে। আর ইংরেজি মাধ্যমের ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা ও গণিত সহ সি গ্রেডে এ লেভেল সনদপ্রাপ্ত এবং পদার্থ বিদ্যা, গণিত ও ইংরেজি সহ ন্যূনতম ৫টি বিষয় নিয়ে সি গ্রেডে ও লেভেল সনদ প্রাপ্ত ছাত্ররা এ বিষয়ে আবেদন করতে পারবে। ক্যাডেটদের জন্য এসব বিষয়ে পড়াশুনার ক্ষেত্রে বেশ সুযোগসুবিধা রয়েছে।

চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিসহ আমাদের দেশে মেরিন একাডেমির সংখ্যা এখন ১৮ টি এবং আশার বিষয় এই যে, প্রতি বছর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেরিন একাডেমি শুরুতে মাত্র ৪৮ জন ক্যাডেট প্রশিক্ষণ দিত, পরবর্তিতে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি প্রায় ২০০ জন ক্যাডেটের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবি ও শিক্ষিত ছাত্র মেরিন একাডেমিতে পরীক্ষা দিলেও আসন সংকটের কারনে যোগ্যতা থাকা সত্বেও অধিকাংশেরই ঠাঁই মিলেনা সেখানে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার দেশে বেসরকারি ভাবে মেরিন একাডেমি স্থাপনের অনুমতি প্রদান করে। ফলে চ্যালেজ্ঞিং এই সেক্টর আরো বিস্তৃত হয়।

আটলান্টিক মেরিটাইম একাডেমি বাংলাদেশে অবস্থিত বেসরকারি ও ব্যাক্তি মালিকানাধীন মেরিন একাডেমির মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অনুমতিক্রমে ২০১২ সালে আটলান্টিক মেরিটাইম একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে ১ # রোডে ১৯# বাড়িতে লেক সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে এই একাডেমির অস্থায়ী ক্যাম্পাস। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য পূর্বাচল এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে স্থায়ী কাম্পাস পূর্বাচল উপশহরে স্থানান্তর করা হবে।

আটলান্টিক মেরিটাইম একাডেমি পরিচালিত হয় জাহাজের অফিসারদের তত্ত্বাবধানে। এই একাডেমির কমান্ড্যান্ট এবং প্রধান প্রকৌশলী দীর্ঘ দিন জাহাজে চীফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন এর ডেপুটি কমান্ড্যান্ট এবং চীপ অফ নটিক্যাল ষ্টাডিজ দক্ষ ক্যাপ্টেন হিসেবে দেশী ও বিদেশী অনেক জাহাজে কাজ করেছেন। একাডেমির শিক্ষকবৃন্দ বেশির ভাগ জাহাজের ক্যাপ্টেন ও চীফ ইঞ্জিনিয়ার। এ ছাড়াও আছেন- অংক, ইংরেজি, কম্পিউটার ও ইলেকট্রিসিটি ক্লাসের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক এবং সিম্যানশিপ ক্লাসের জন্য বাংলাদেশ নেভীর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বাংলাদেশ নেভীর অবসর প্রাপ্ত জি.আই. এবং পি.টি.আই. দ্বারা ক্যাডেটদের শরীর চর্চা, প্যারেড, খেলাধুলা ও শৃঙ্খলা শিক্ষা দেয়া হয়।

ইঞ্জিন ক্যাডেটদের ওয়ার্কশপ ট্রেনিং ও সকল ক্যাডেটদের জন্য জাহাজ ও শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শন সহ প্রশিক্ষণ শেষে ১২ মাস জাহাজে ক্যাডেট বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাটানোর যাবতীয় ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। এ বিষয়ে আরো জানতে ফোন ০২-৮৯৯১৭৬০

প্রিয় পাঠক, পোস্টটি পড়ার পর আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা, জিজ্ঞাসা কিংবা পরামর্শ প্রদানের জন্য দয়া করে গঠনমূলক মন্তব্য প্রদান করুন। যা আমাদের ব্লগিং চালিয়ে যেতে অনেক উৎসাহ অনুপ্রেরণা জাগাবে। আর প্রাসঙ্গিক যেকোন প্রশ্নের সমাধান পেতে মেইল করুন contact@projukte.com ঠিকানায় অথবা অধিক জরুরী প্রয়োজনে কল করুন ০১৭৫৪৭২০২৫৫ নম্বরে। আপনার একটি মন্তব্যই আমাদের নিকট অনেক মূল্যবান। সাথেই থাকুন প্রযুক্তি ডট কম বাংলা ব্লগের সাথে।
ধন্যবাদান্তে,
প্রযুক্তি ডট কম

আপনার মূল্যবান মন্তব্য প্রদানের জন্য ধন্যবাদ